স্বামী স্ত্রীর মিলন
স্ত্রী সহ মার্কেটে আসলাম ইমিটেশনের চুড়ি কিনতে।স্ত্রী প্রতিটা দোকান ঘুরছে,কোনোটাই পছন্দ হচ্ছে না।
প্রতি দোকানে যাচ্ছে চুড়ি পরছে আর খুলছে।একটাও নাকি পছন্দ হয় না।বিরক্ত হয়ে বললাম
" এইজন্য তোমার সাথে কিছু কিনতে আসিনা "
" ধুর,এতো কম ধৈর্য্য নিয়ে মার্কেট হয় নাকি?দেখতে দিবে তো "
" আর কত দেখবে?এতোগুলা দেখেও তো পছন্দ হচ্ছে না তোমার "
" তুমি এসব বুঝবা না।মেয়েদের জিনিসপত্র দেখেশুনে কিনতে হয় "
বাধ্য হয়ে স্ত্রীর এই সুপ্ত নি"র্যাতন সহ্য করতে লাগলাম।মার্কেটে বেলি ফুলের মালা দেখে পনেরো টাকা দিয়ে হাতের মাপের একটা মালা কিনলাম।
স্ত্রীর হাতে পড়িয়ে দিতে গিয়ে হতভম্ব! হকচকিয়ে বললাম
" তোমার হাতের সোনার চুড়ি দুইটা কই গেলো! "
স্ত্রীর চোখ মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেলো।মুখ ভোতা করে বললো " সর্বনাশ! ভুলে নিজের চুড়ি দুইটাও বোধহয় দোকানিকে দিয়ে দিছি! কি হবে এবার! "
এটা বলেই স্ত্রী হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো।৫৬ হাজার টাকা দিয়ে চুড়ি দুইটা বানিয়ে দিয়েছিলাম।এখন খুঁজছি,জানি পাবো না।
স্ত্রী চেঁচিয়ে বলছে " খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে না থেকে চুড়ির দিকে খেয়াল তো রাখতে পারতে।সবকিছু কি আমি একা সামলাবো?"।আমি বাকরুদ্ধ এবং হতাশ!
গল্প-চুড়ি
লেখক-জয়ন্ত_কুমার_জয়
স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা
স্টেশনে পাশাপাশি বসে আছে তরুণ দম্পত্তি।স্বামীর কাঁধে স্ত্রীর ভ্যানিটি ব্যাগ ঝুলছে।মনে মনে হাসছি আর ভাবছি
" স্ত্রৈণ পুরুষ! বউয়ের আঁচলের তলে থাকে।বউয়ের ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে ঘুরছে! লজ্জা লাগে না এদের? "
আরেকবার মনে হলো,নতুন নতুন বিয়ে তো।কিছুদিন এরকম আবেগ থাকে।দুদিন গেলে বউকে সাথে নিয়ে বেড় হতেও বিরক্তিবোধ হবে।
ট্রেন আসলো।ট্রেন আসার দমকা বাতাসে হঠাৎ ওনার স্ত্রীর গায়ের চাঁদর হাত থেকে সরে গেলো।একটি হাত দৃশ্যমান,অন্য হাতটা অদৃশ্য!
বু"ক কেঁপে উঠলো।অনুতপ্ত আমি গেলাম দম্পত্তির কাছে।কথায় কথায় জানতে পারলাম মেয়েটির হাত জন্ম থেকেই নেই।ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো তারা।
গল্প-অনুতপ্ত
লেখক-জয়ন্ত_কুমার_জয়
স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসার পোস্ট
সিদ্ধান্ত নিলাম প"রকীয়া করবো।ভ্যাবলা ধরনের একটা কালো মেয়েকে নিয়ে আজীবন সংসার করার কোনো মানে হয় না।
প"রকীয়া করবো নাই বা কেন?আমি ফর্সা,সুঠাম শরীর,ভালো চাকরি।আমার বউ কেন গেঁয়ো ধরনের হবে?পরিবার কেন তাদের নিজেদের পছন্দ করা মেয়েকে আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিবে?
মেয়েটা এতোটাই অসামাজিক যে বন্ধুদের সামনে আনতে নিজেরি লজ্জা লাগে।
অফিস কলিগ সিয়াম সাহেবের স্ত্রীকে দেখে আমি মন্ত্রমুগ্ধ।বউ হতে হয় এরকম।সিয়াম সাহেব একদিন অফিস শেষে বললেন
" বুঝলেন ভাই,স্ত্রীর সাথে ঝগড়া হইছে।বাপের বাড়ি চলে গেছে।খাওয়াদাওয়ার হইছে সমস্যা "
ভদ্রতা রাখতে বললাম " আমার বাড়িতে চলুন।ডিনার করে যাবেন "।তিনি এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন।চরম অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম।
খাবার শেষ করে সিয়াম সাহেবের মুখে যেন প্রসংসার বন্যা বয়ে যাচ্ছে।তার কথার সারমর্ম এই যে তার জীবনে এতো ভালো মুরগীর মাংস তিনি কখনো খাননি।
খাওয়া শেষে তিনি বললেন " বুঝলেন ভাই,আপনার ভাবী,তাকে নিয়ে নতুন করে আর কি বলবো! সারাদিন পড়ে থাকে রুপ নিয়ে।আরে বেটি,সারাক্ষন রুপ নিয়ে পড়ে থাকবি জন্য বিয়ে করে আনছি নাকি? স্বামীর খোঁজখবর নিতে হবে না?তিন বছর জীবনে পানসে রান্না আর হোটেলের খাবার খেয়ে বেঁচে আছি।ভুলেও কখনো রান্নাঘরে যায় না।রান্নার সব আমিই করি "
মনে মনে ভাবলাম ওরকম সুন্দরী বউ থাকলে রান্না করতেও কষ্ট লাগে না।
এর কিছুদিন পর তীব্র জ্বরে পড়ে গেলাম।দিন রাত কোনদিক দিয়ে পার হয়ে যায় বুঝতেই পারিনা,এমন অবস্থা।স্ত্রী পাশে থেকে সেবা করলো।সারারাত কপালে জলপট্টি দিলো,ভেজা গামছায় গা মুছে দিলো।তার নিরলসভাবে সেবা করতে দেখে নিজেকে বড্ড সুখী মানুষ মনে হতে লাগলো।
সুস্থ হয়ে একরাতে খবর পেলাম সিয়াম ভাই তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছেন।স্ত্রী প"রকীয়া করতে গিয়ে ধরা পড়েছে।
রাতে স্ত্রীর দিকে ভালোভাবে তাকালাম।কেন জানিনা তাকে খুব মায়াবী লাগছে,ঠো'টের স্পর্শ পেতে খুব ইচ্ছে হলো।বুঝতেই পারলাম না কিভাবে হঠাৎ তার প্রেমে পড়ে গেলাম।
সেই যে হুট করে প্রেমে পড়ে গেলাম, সেই প্রেম দিনদিন বাড়তে লাগলো।এখন দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার।স্ত্রীকে সবসময় চোখে হারাই।
-সময়
স্বামী স্ত্রী নিয়ে স্ট্যাটাস
অফিসে যাওয়ার আগ মুহুর্তে আমার স্ত্রী যখন আমার কাছে জানতে চাইলো আমি তার ছোট বোনের বিয়েতে কি উপহার দিবো তখন আমি বললাম,
- তুমি তোমার পছন্দমতো কিছু একটা কিনে দিও
আমার স্ত্রী কিছুটা রেগে বললো,
-" কিছু একটা কিনে দিবো মানে? তুমি জানো দুলাভাই আমার বোনকে কি উপহার দিচ্ছে? ১লাখ ২০হাজার টাকা দিয়ে সোনার কন্ঠ হার!
আমি বললাম,
-তাহলে এখন আমার কি করতে হবে?
আমার স্ত্রী হেসে বললো,
-" আমি আমার বোনকে ২লাখ টাকা দিয়ে সিতা হার কিনে দিবো।"
কথাটা শুনে আমি অবাক হয়ে বললাম,
-এতো টাকা!
আমার স্ত্রী মুখটা মলিন করে বললো,
-" দুলাভাই যদি ২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়ে এতোটাকা দিয়ে উপহার দিতে পারে তাহলে তুমি ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়ে কেন পারবে না? এখন তুমি যদি দুলাভাইয়ের চেয়েও কম দামের উপহার দাও তাহলে বাপের বাড়িতে আমি মুখ দেখাতে পারবো?
আমি কিছুটা বিরক্ত হয়ে বললাম,
-আচ্ছা ঠিক আছে। আফিস থেকে আসার পর তোমায় টাকা দিচ্ছি।
কথাটা বলে আমি বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম-----
অফিসে এসে রায়হান সাহেবের ফাইলটা ভালো করে দেখে বললাম,
-আপনার তো দেখছি কাগজ পত্রের কিছুই ঠিক নেই। আমি এই প্রজেক্টে সাইন কিভাবে করি বলেন তো?
রায়হান সাহেব মুচকি হেসে বললো,
-" স্যার একটু দেখেন না! আপনি এতো বড় অফিসার। কিছু তো ফাঁক ফোকর আছে সাইনটা করে দেওয়ার জন্য। একটা কমলের খোঁচার বিনিময়ে আপনিও না হয় লাখ তিনেক টাকা পেয়ে গেলেন।"
কথাটা বলে রায়হান সাহেব টাকাগুলো টেবিলের উপর রাখলেন
আমি রায়হান সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললাম,
- আপনি কি আমায় ঘুষের অফার করছেন?
রায়হান সাহেব জ্বিভে কামড় দিয়ে মুচকি হেসে বললো,
-" না না স্যার, একদম না। টাকাটা আমি আপনাকে উপহার সরূপ দিচ্ছি। আপনি ভাবীকে নিয়ে নাহয় থাইল্যান্ড গিয়ে ৩দিনের একটা ট্যুর দিয়ে আসলেন।"
আমি টাকা গুলো ড্রয়ারে রেখে মুচকি হেসে বললাম,
- আপনি তো দেখছি পাকা খেলোয়াড়। ঠিক আছে আমি ফাঁক ফোকর খুঁজে কাল সাইন করে দিবো।
রায়হান সাহেব চলে গেলে আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম, যাক শ্যালিকাকে সিতা হার কিনে দেওয়ার টাকার ব্যবস্থা হয়ে গেলো। এমন সময় হাবীব নামের একজন কলিগ আমার রুমে আসলো। সে যখন বললো সে চাকরি থেকে রিজাইন নিতে চায় তখন আমি খুব অবাক হয়ে উনাকে বললাম,
-তুমি এতো ভালো একটা চাকরি ছেড়ে দিতে চাইছো? তুমি জানো এই চাকরির জন্য কত মানুষ দিন রাত পরিশ্রম করছে?
হাবীব মুচকি হেসে বললো,
-“স্যার, এই চাকরি করলে হয় আমাকে ঘুষ খেতে হবে, না হয় রাস্তায় মরে পড়ে থাকতে হবে। আমি অসৎও হতে পারবো না, আর রাস্তায় মরে পড়ে থাকতে চাই না। তাই চাকরিটা ছেড়ে দিচ্ছি।”
কথাটা শুনে আমি কিছুটা খোঁচা দিয়ে হাবীবকে বললাম,
-আমার জানা মতে আপনি আমাদের সেক্টরে সবচেয়ে বেশিই ঘুষ খান। সেই আপনি কবে থেকে সৎ হলেন?
হাবীব আবারও মুচকি হেসে বললো,
-“যেদিন থেকে বুঝলাম আমার পাপের ফল আমার আপনজনরা ভোগ করছে। আমি প্রথম যেদিন ১০ হাজার টাকা ঘুষ খাই সেদিন বাসায় গিয়ে শুনি আমার ছেলেটার পা ভেঙে গেছে। ২য় বার যখন ৫০ হাজার টাকা ঘুষ খাই তার কয়েকদিন পর জানতে পারি আমার স্ত্রীর জরায়ুতে টিউমার হয়েছে। আর ৩য় বার যখন ১লাখ টাকা ঘুষ খাই তখন গ্রামের বাড়ি থেকে ফোন আসে আমার মা মারা গেছে। তারপরই আমি বুঝতে পেরেছি আমার ভুলটা।”
চলে যাবার আগ মুহুর্তে হাবীব আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
-” স্যার, আপনি অবৈধ ভাবে যদি ৫টাকা ইনকাম করেন উপরওয়ালা আপনার থেকে বৈধ ভাবে ২০টাকা কিভাবে যে কেড়ে নিবে আপনি বুঝতেই পারবেন না।”
হাবীব চলে গেলে আমি ওর কথাগুলো একটু চিন্তা করলাম।
বাসায় আসার পর আমার স্ত্রী যখন আমার কাছে টাকা চাইলো আমি তখন ওর হাতে আমার বেতনের টাকাটা তুলে দিয়ে বললাম,
- এইখানে ৪৫হাজার টাকা আছে। এই টাকা দিয়ে তুমি বাসা ভাড়া দিবে, গ্যাস বিল, পানির বিল, কারেন্ট বিল দিবে, বাজার খরচের টাকা আলাদা করে রাখবে , হাত খরচের টাকা আলাদা করে রাখবে। আর চিকিৎসা বাবদ কিছু টাকা জামা রাখবে। সব কিছুর পর যদি কিছু টাকা বেঁচে থাকে সেই টাকা দিয়ে বোনকে উপহার কিনে দিবে।
আমার কথা শুনে আমার স্ত্রী অবাক হয়ে বললো,
-“সব কিছুর পর তো হাতে দুই হাজার টাকাও থাকবে না। আমি দুই হাজার টাকা দিয়ে বোনকে উপহার কিনে দিবো?
আমি রাগী চোখে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললাম,
-সংসারের সব খরচ চালানোর পর তোমার স্বামীর হাতে ২ হাজার টাকাও থাকে না আর তুমি কোন সাহসে বলো তোমার বোনকে দুইলাখ টাকা দিয়ে সোনার হার কিনে দিতে?
বউ তখন কাঁদতে কাঁদতে বললো,
-“বাপের বাড়ি মুখ দেখাবো কি করে?”
আমি আরো রেগে বললাম,
-মুখ দেখাতে না পারলে বোরকা পড়ে বসে থেকো।এখন কান্না বন্ধ করে আপাতত আমার সামনে থেকে যাও তা নাহলে কান গরম করে ফেলবো।
বউ কান্না করতে করতে চলে গেলো আর আমি ভাবতে লাগলাম,
কাল রায়হান সাহেব আসলে উনার কানটা গরম করে টাকাগুলো ফিরত দিতে হবে
-ঘুষখোর
-আবুল বাশার পিয়াস